logo

‘বিদ্যুৎ থাকে না, মাঝেমধ্যে আসে’

‘বিদ্যুৎ থাকে না, মাঝেমধ্যে আসে’

জামালপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা মেহরাব হোসেন। পড়াশোনা করছেন স্নাতক প্রথম বর্ষে। তার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রকট। জেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেশি। অবস্থা এমন বিদ্যুৎ কখন থাকে, কখন থাকে না–সেটি বোঝা মুশকিল প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের।

জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী এলাকায় থাকেন মেহরাব। ইসলামপুর কলেজের এই শিক্ষার্থী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের এই চরে বিদ্যুৎ থাকে না, মাঝেমধ্যে আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ২-৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে লেখাপড়া করা যায় না।

জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। যদিও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দাবি করছে–লোডশেডিং তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যুতের সংকট টের পাচ্ছেন।

জামালপুরের সাত উপজেলা এবং শেরপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ জেলার কিছু অংশ মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সাত লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৫০-১৬০ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট।

জামালপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাহক আছে ৭৮ হাজার। গ্রাহকের চাহিদামতো দৈনিক প্রয়োজন ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট।

জামালপুর মেলান্দহ পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরিক্ষার্থী মীম জানায়, কখন যে কারেন্ট যাই, আবার আসে আমরা বলতেই পারি না। ৪০ মিনিট কারেন্ট থাকলে দেখা যাই ৪ ঘণ্টা থাকে না। আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে পারছি না।

বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দিঘলাকোনা পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা রাত্রি দারিং বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। বিদ্যুৎ থেকেও না থাকার মতো।

এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাহিদুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামে এবং দিনের তুলনায় রাতে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। শহরে ৭-৮ ঘণ্টা, গ্রামে এর চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিবুল আজাদ রুবেল বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কর্তৃপক্ষকে চাহিদার কথা জানাই। চাহিদামতো বিদ্যুৎ পেলে লোডশেডিং কমে আসবে।

জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, সারা দেশে বন্ধ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো উৎপাদনে গেলে চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাব। সরকারকে এই সেক্টরে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এতে লোডশেডিং ও আমাদের দুর্ভোগ কমবে।