logo

তাজনিম রাতে যেখানে নেমেছিল, তার পাশেই ছিল পুলিশের সার্কেল অফিস

তাজনিম রাতে যেখানে নেমেছিল, তার পাশেই ছিল পুলিশের সার্কেল অফিস
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যাকাণ্ড ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। শেষ রাতে তার অবস্থান, বাবার কাছে পাঠানো লাইভ লোকেশন, প্রধান আসামি অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার সব মিলিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে, তাজমিন বাস থেকে যেখানে নামে সেই স্থানের ১০০ গজ দূরেই রয়েছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিস। এত কাছাকাছি পুলিশি স্থাপনা থাকার পরও পুলিশের তৎপরতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সার্কেল অফিসের পাশেই তিশা বাস টিকেট কাউন্টারের ম্যানেজার সাইফুল বলেন, ঘটনার পাশেই পুলিশের অফিস এটা সবাই জানে। আমি পুলিশকে দোষারোপ করতে চাই না। তবে ঘটনার আগে-পরে কী হয়েছিল, সে সময় পুলিশের কোনোভাবে সহায়তা করার সুযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

দোকানদার শরিফ বলেন, পুলিশ স্যারনা আমাদের বললেও আমরা সাহায্য করতাম। এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব বিষয়ে পরিবারকে যেমন সচেতন থাকতে হবে। তেমনি বিপদে পড়লে যেন সবাই পুলিশের কাছে নির্দ্বিধায় সাহায্য চাইতে পারে সেই পরিবেশও তো নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, অফিস থাকলেও সে তো আর আসেনি। তাজমিন সাহায্য চাইতে সার্কেল অফিসে গেলে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু সে সেখানে যায়নি বলে জানান তিনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাজমিনকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।

পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

তাজমিনের শেষ রাতের গতিবিধি নিয়ে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন। সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে বাবার কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল—এসব তথ্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তাজমিন আর স্কুলে যাচ্ছিল না। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।