logo

মায়ের লাশ দেখতে যাওয়ার পথে লাশ হলেন মেয়ে

মায়ের লাশ দেখতে যাওয়ার পথে লাশ হলেন মেয়ে
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি সড়কের পাশে সীমানাপ্রাচীরে সজোরে ধাক্কা দেয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়ি ফিরছিলেন রেশমা বেগম। কিন্তু মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে।

রোববার (৭ জুন) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোন্দারদিয়া এলাকায় মালেকা চক্ষু হাসপাতালের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রেশমা বেগম (২৫) সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রেশমা বেগম স্বামী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়ি সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রথমে তারা বাসে ফরিদপুরে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে সাতক্ষীরা রওনা দেন।

পথে গোন্দারদিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রাইভেটকারটি সড়কের পাশে মালেকা চক্ষু হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীরে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রেশমা বেগম গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেশমা বেগমকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ বলেন, নিহত রেশমা বেগম মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গাজীপুর থেকে সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সি মেয়েও আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।