ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে পেলেন কঙ্কাল, গ্রেপ্তার বন্ধু ও তার স্ত্রী

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে যুবকের গলিত কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের বন্ধু এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিকলী থানায় নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুট্টা ক্ষেতে একটি কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন কৃষকরা। পরে পরনের কাপড় দেখে কঙ্কালটি শনাক্ত করে পরিবার।
নিহত মো. আবীর হোসেন (২০) উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবীর গত ৯ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবার খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে ১৩ মার্চ নিকলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হওয়া সত্ত্বেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় শঙ্কা বাড়তে থাকে।
এদিকে কৃষকরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুট্টা ক্ষেতে একটি কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবীরের পরিবারের কাছে পরিচয় নিশ্চিত করলে তার বাবা ছেলের পরনের কাপড় দেখে কঙ্কালটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আবীরের বন্ধু মাহমুদুল হাসান (২০) এবং তার স্ত্রী খেয়া আক্তারকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসান ও রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আব্দুর রশিদের মেয়ে খেয়া আক্তারের মধ্যে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর খেয়াকে রাজশাহী থেকে নিকলীতে নিয়ে আসেন মাহমুদুল এবং ১৯ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। মাহমুদুল ও আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে খেয়ার কথাবার্তা চলত। অভিযোগ রয়েছে, আবীর ও খেয়া মোবাইল ফোনে ছবি আদান-প্রদান করছিল। বিষয়টি জানতে পারার পর মাহমুদুল আবীরকে হুমকি দেন। এর দুই দিন পর থেকেই আবীর নিখোঁজ হন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবীরের বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া শুক্রবার নিকলী থানায় মাহমুদুল ও খেয়া আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের দ্রুত আদালতে হাজির করা হবে।