পরিচয়হীন নবজাতক, হাসপাতালেই নতুন ঠিকানা

জন্মের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পৃথিবীর সব পরিচয় হারিয়ে ফেলেছিল একটি কন্যাশিশু। কে তার বাবা-মা, কোথায় তার ঘর; কেউ জানে না। তবে অজানা এই নবজাতকের জন্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে হাসপাতালের ১৮ নম্বর বেড; আর চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরাই এখন তার পরিবার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর ব্রিজের নিচে একটি দোকানের পাশ থেকে ভেসে আসে শিশুটির কান্না। স্থানীয় এক ব্যক্তি শব্দটি শুনে এগিয়ে গিয়ে ঝোপের আড়াল থেকে তাকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তিনি চলে যান, রেখে যান না কোনো পরিচয়।
ভর্তির সময় শিশুটির অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। অতিরিক্ত দুর্বলতায় সে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়াও করতে পারছিল না। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা ও হাসপাতালকর্মীদের যত্নে ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা আয়া মনিরা বেগম বলেন, আমার নিজেরও দেড় বছরের একটি সন্তান আছে। এই বাচ্চাটিকে দেখে খুব খারাপ লাগে। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত কয়েক দিন ধরে আমি তাকে দুধ খাওয়াচ্ছি। শুরুতে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল, এখন অনেকটাই ভালো। আমি ডিউটি শেষে বাসায় গেলে অন্য সিস্টাররা তাকে দেখাশোনা করেন। আমরা চাই, সে সুস্থ হয়ে একটি পরিবারের কাছে যেতে পারুক।
দায়িত্বে থাকা নার্স হাবিবা আক্তার জানান, ৮ তারিখে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার কোনো স্বজন ছিল না। তিনি বলেন, শুরুতে শিশুটির অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। একটি দিনের বাচ্চাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া—মানুষ এমন করতে পারে, ভাবতেই কষ্ট হয়।
মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখে এসেছেন।
তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবারকে না পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিশুটিকে একটি ভালো পরিবারের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।