logo

আত্মগোপনে কোথায় ছিলেন তালুকদার ইউনুস, জামিন নিয়ে কে কী বলছেন

আত্মগোপনে কোথায় ছিলেন তালুকদার ইউনুস, জামিন নিয়ে কে কী বলছেন

জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মামলায় অভিযুক্ত অনেক নেতা আত্মগোপন থেকে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিচ্ছেন। এরমধ্যে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামিন পেয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত বর্জন করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতি নেতারা।

আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসে কীভাবে জামিন পেলেন তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস-বিষয়টি নিয়ে জানার চেষ্টা করেছে এশিয়া পোস্ট। অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. সরোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বরিশাল জেলা ও মহানগর পার্টি অফিস ও অনামী লেনে হামলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে ১ নম্বর আসামি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীরকে ২ নম্বর আসামি এবং তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় মোট ২১০ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় যা আছে

বাদী মো. ছরোয়ার হোসেন মামলায় বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় আমরা অবৈধ নির্বাচন বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত দলীয় প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। বরিশাল জেলা বিএনপি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চাঁনসহ দলীয় কার্যালয়ে আসার পথে সদর রোডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। একপর্যায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে এবায়দুল হক চাঁনকে মারধর করে। আমরা এগিয়ে এলে আসামিরা আমাদেরও মারধর করে। আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেয়। আসামিরা আমাদের পকেটে থাকা টাকা চিনিয়ে নিয়ে যায়। আমার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিতে গেলে আসামিরা বাধা দেয়। পরে আমার পরিবার আমাকে ঢাকা আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করে। আমরা ভয়ে-আতঙ্কে আদালতে ও থানায় মামলা করেছি। সেজন্য মামলা করতে দেরি হয়। 

কে এই তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস?

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস ২০০৮ সালে বরিশাল-১ এবং ২০১৪ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার পর যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কোর্ট মার্শালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনও নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ৭ ডিসেম্বর এলাকা শত্রুমুক্ত হলে কারাগার ভেঙে বন্দী মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। তবে তিনি কোথায় ছিলেন সে বিষয়ে কেউ জানেন না। এমনকি তিনি আদালতে আসার আগ পর্যন্ত কেউ জানতেন না তিনি আসবেন।

আইনজীবীদের ক্ষোভ

তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস জামিন পাওয়ায় বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন জানান, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় মানুষকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এই জামিন দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল খালেক মনা জানান, এই মামলায় ৫ নম্বর আসামি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বলরাম পোদ্দার অভিযুক্ত ছিলেন। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। একইভাবে আত্মসমর্পণ করেন তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। সাত বছর আগের মামলাটির পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের শর্তে আদালত জামিন দিয়েছেন।