logo
Advertisement

মানিকগঞ্জ/আড়াই কোটি টাকার রেসকিউ বোট পানির নিচে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
মানিকগঞ্জ, ঢাকা
আড়াই কোটি টাকার রেসকিউ বোট পানির নিচে
পানির নিচে আড়াই কোটি টাকার রেসকিউ বোট। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মানিকগঞ্জে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল চারটি রেসকিউ বোট। তবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এই নৌযানগুলো এখন কালীগঙ্গা নদীর পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে ভরা বর্ষা মৌসুমেও দুর্যোগ মোকাবিলায় কোনো কাজে আসছে না সরকারি অর্থের এসব বোট।

সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা, ত্রাণ পরিবহন এবং দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে মানিকগঞ্জে এসব বোট হস্তান্তর করা হয়। তবে গত পাঁচ বছরে কোনো ধরনের উদ্ধার বা ত্রাণ কার্যক্রমে নৌযানগুলো ব্যবহার করা হয়নি।

নৌযানগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চারজন গ্রিজার ও তিনজন লস্করসহ মোট আটজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের মাত্র এক বছর পরই তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও সরকারি সম্পদ রক্ষার তাগিদে প্রায় তিন বছর বিনা বেতনে নৌযানগুলোর দেখভাল করেছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক কর্মচারীরা।

সে সময় দেখভালের দায়িত্বে থাকা রানা মিয়া বলেন, সরকারি সম্পদ কার কাছে বুঝিয়ে দেবেন—সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগও তাদের ছিল না। বেতন না পেলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা বাধ্য হয়ে নৌযানগুলোর দেখভাল করেছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয় বাসিন্দা কোরবান আলী জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে নৌযানগুলো একই স্থানে অযত্নে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে চারটি বোটই রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নদীর পানিতে তলিয়ে আছে।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সরকার মানুষের বিপদের সময় ব্যবহার করার জন্য এত দামি বোট দিয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর পানিতে পড়ে থেকে এগুলো নষ্ট হচ্ছে। বন্যা বা দুর্ঘটনার সময় যদি প্রয়োজন হয়, তখন তো এই বোট আর কোনো কাজে আসবে না। দ্রুত এগুলো উদ্ধার করে চালু করার ব্যবস্থা করা উচিত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নৌযানগুলো অচল পড়ে থাকলেও ২০২২ সালে জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট বাবদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া একই বছরে চালক ও সহযোগীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

২০২৫ সালে প্রকল্পের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর নৌযানগুলোর অবশিষ্ট দেখভালও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে ও ডুবে থেকে একে একে নষ্ট হতে শুরু করে বোটগুলো। মূল্যবান এই সরকারি সম্পদ রক্ষায় বর্তমানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, মানিকগঞ্জের চারটি বোটই বর্তমানে ডুবে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।