logo

একাদশ/ভর্তির সময় আছে একদিন, এখনও মার্কশিটই পায়নি ফেনীর শিক্ষার্থীরা

ভর্তির সময় আছে একদিন, এখনও মার্কশিটই পায়নি ফেনীর শিক্ষার্থীরা
আগের ছবি

ফেনীতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছালেও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এখনো মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (মার্কশিট) না আসায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূল ট্রান্সক্রিপ্ট হাতে না পাওয়ায় জেলাজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, আন্তশিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করতে হবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্দেশনায় কলেজে ভর্তির জন্য মূল মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র (টেস্টিমোনিয়াল) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সময় ঘনিয়ে এলেও শিক্ষা বোর্ড থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীরা কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করতে পারছেন না।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ২০২৬ সনে জায়লস্কর স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছি। কলেজ ভর্তির জন্য আবেদন করলে ফেনী শহরের রামপুর নাসির মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে নাম আসে। পরে ভর্তির জন্য গেলে কলেজ থেকে মূল মার্কশিট চাওয়া হয়। তখন স্কুলে যোগাযোগ করলে তারা জানান এখনো মার্কশিট আসে নাই। পরে আমি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে অনলাইন থেকে মার্কশিট প্রিন্ট করে কলেজে ভর্তি হয়েছি। মার্কশিট হাতে পেলে তখন কলেজে জমা দেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ট্রান্সক্রিপ্টের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের কাজ এখনো চলছে এবং তা স্কুলে স্কুলে পৌঁছাতে আরও অন্তত সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, বোর্ড থেকে কাগজ না আসায় স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মূল মার্কশিটের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লেগেই রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খন্দকার বলেন, বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে কোথাও সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মূল মার্কশিট না পাওয়ায় ভর্তির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়েছে। এ জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা মার্কশিট দিয়ে ভর্তির জন্য বলেছি। মূল কপি পাওয়া গেলে তা দ্রুত কলেজে জমা দেওয়ার জন্য বলেছি। যদি কেউ তথ্য গোপন করে মূল মার্কশিট না দিয়ে অন্য কোথাও দ্বৈত ভর্তি হয়, সে ক্ষেত্রে তার ভর্তি বাতিল হবে।

এদিকে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিভাবকরা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি—যেহেতু বোর্ডের বিলম্বের কারণে মূল মার্কশিট পেতে দেরি হচ্ছে, তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা মার্কশিট দিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হোক অথবা ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হোক। শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না দিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।