জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে পাবনায় মেলা ও সার্কাস উদ্বোধন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহাসিক বড়াল ব্রিজ খেলার মাঠে তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়া সার্কাসের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের ফোনে কল দেওয়া হয়। কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন। তিনি বলেন, সবকিছুই ভাড়া করা; তাই উদ্বোধন করতেই হয়েছে। তবে এমন দিনে সার্কাস ও মেলা উদ্বোধন ঠিক কাজ হয়নি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রতিবছর এ দিনটি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং স্মরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে থাকে।
দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর দিন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সার্কাস ও মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের কয়েকজন সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, দিনটির গুরুত্ব বিবেচনায় নেতাদের স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বেশি সম্পৃক্ত থাকা উচিত ছিল।
স্থানীয় একাধিক বিএনপি সমর্থক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিনটিতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি প্রত্যাশিত ছিল। সেখানে সার্কাস ও মেলা উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়েক আবু সায়েম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মিলাদ বা দোয়া কর্মসূচি না করে এ ধরনের আয়োজন কেন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। এটিকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, এমন দিনে মিলাদ মাহফিল বা দোয়া মাহফিল হওয়া যৌক্তিক ছিল। শোকের দিনে মেলা বা আনন্দের কোনো কিছু বিএনপির কারও মাধ্যমে হওয়া কোনোভাবে কাম্য নয়।
