logo

নড়াইলে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৯

নড়াইলে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৯
গ্রেপ্তার নয়জন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ইলিশ মাছ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা ও জুয়া পরিচালনার অভিযোগে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে এসব অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার।

পুলিশ সুপার জানান, একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির নামে প্রতারণা করে আসছিল। নড়াইলেও চক্রটি ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’, ‘নাহিদ ওয়ার্ড’, ‘কলম প্যাকেজিং’, ‘কাকলী ফার্নিচার’, ‘ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর’ ও ‘অনলাইন বিডি’সহ বিভিন্ন নামে ফেসবুকে প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপন দিত। সাধারণ মানুষ এসব বিজ্ঞাপনে সাড়া দিলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) লোহাগড়া উপজেলার ঝামারঘোপ বাজারের ‘মা ফার্মেসি’তে অভিযান চালায় জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ দল। সেখান থেকে প্রতারক চক্রের মূলহোতা ফরহাদ হোসেন (২৬) ও তার ভাই ফরিদ হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার কলাগাছি গ্রামের আজাদ মোল্যার ছেলে।

অভিযানে ফরহাদের সাত সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—লোহাগড়ার লাহুড়িয়া ডহরপাড়া গ্রামের সজীব হোসেন (৩০), গোবিন্দপাড়া গ্রামের প্রসেনজিৎ মজুমদার (৩০), চরঝামারঘোপ গ্রামের জমির মোল্যা (৪৫), কালিনগর গ্রামের লাহু মিনহাজ (২৪), একই গ্রামের বিবেক বিশ্বাস (২৫) এবং মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার কলাগাছি গ্রামের আলাউদ্দিন মোল্যা (২৮) ও নাজমুল মোল্যা (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার ও বিপুল ই-ট্রানজেকশনের তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। উক্ত আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অনূর্ধ্ব পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

পুলিশ সুপার অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি লোভনীয় বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিক লেনদেন না করতে সর্বসাধারণকে পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. আলাউদ্দিনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।