logo

রংপুরে যুবদল নেতাকে হত্যার পর দাসপাড়ায় হামলা-ভাঙচুর

রংপুরে যুবদল নেতাকে হত্যার পর দাসপাড়ায় হামলা-ভাঙচুর

রংপুর নগরীতে মাদক কারবারের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে (২৩) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার জেরে দাসপাড়া এলাকায় দোকান ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে নগরীর দাসপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দাসপাড়া মোড়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কেউ কিছু না বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের পক্ষের লোকজন এ হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০টির মতো দোকান বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি দোকানের শাটার ও ঝাঁপ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে নিহত রাকিবের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তারা মরদেহ দাফনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে মাদক কারবারি মমিনের জামাই সিফাতের নেতৃত্বে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, নিহত রাকিব ও মাদক কারবারি মমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে কয়েক মাস আগে তাদের দ্বন্দ্বের জেরে রাকিবের পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মমিনের স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর মমিনের স্ত্রী গিয়ে তাকে ঘটনা জানিয়ে রাকিবকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করেছে বলে এমন অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে করা হয়।

শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি দোকানের শাটার ক্ষতিগ্রস্ত। আশপাশের কিছু বাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার গ্লাস ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় চায়ের দোকানদার বিনোদিনী দাস বলেন, রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ৪০-৫০ জনের একটি দল এসে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী আরেক দোকানদার আরিফ হাসান রুবেল জানান, শুক্রবার দুপুর থেকেই কিছু লোক অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। হামলার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। পরে দোকানে এসে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। বর্তমানে তারা আতঙ্কে দোকান বন্ধ রেখেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বৈরাগীপাড়ায় নিহত যুবদল নেতা রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার মা, বোন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা হয়। বোন রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইকে কোনো হিন্দু মারেনি, তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধও নেই। দাফনের পর আমরা পরিবার নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। মমিনের জামাই লোকজন এনে পরিকল্পিতভাবে দোকান ভাঙচুর করেছে।’ নিহত রাকিবের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘হত্যাকারীরা আমাদের ওপর দোষ চাপানোর জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।