সমালোচনার মুখে শাহরাস্তিতে ওয়াকওয়ের ‘প্রবেশ ফি’ বাতিল

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ‘শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে’। নির্মাণের পর থেকেই প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে নান্দনিক এই স্থানটি। দূরদূরান্ত থেকেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন বিনোদনপ্রেমীরা। তবে সম্প্রতি নদীবন্দরের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই ওয়াকওয়ে ইজারা দেয়। এতে ওয়াকওয়েতে প্রবেশের ওপর বিশেষ ফি নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এদিকে শাহরাস্তি ওয়াকওয়েতে ‘প্রবেশ ফি’ নির্ধারণ করা টিকিটের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিআইডব্লিউটিএ অবশ্য দাবি করছিল, শাহরাস্তি ওয়াকওয়েতে প্রবেশ ফি নেওয়া বৈধ এবং ইজারাদার চাইলে তা আদায় করতে পারবেন।
জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর ওয়াকওয়েটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। দেড় বছর কাজ শেষে শাহরাস্তির সূচিপাড়া ব্রিজ থেকে চিখটিয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় এই আধুনিক স্থাপনা। নদীর দুই পাশে রেলিং, বসার স্থান ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে এটিকে একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইজারার টেন্ডার সূচি অনুযায়ী, এই পর্যটনকেন্দ্রের ৯ নম্বর পয়েন্টের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৪ টাকা। টেন্ডারের আওতায় ডাকাতিয়া নদীর উভয় পাড়ে মালামাল ওঠানামার ওপর শুল্ক আদায়ের বিধান রাখা হয়।
তবে বিআইডব্লিউটিএর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ওয়াকওয়েতে প্রবেশের জন্য প্রতি দর্শনার্থীকে ৫ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৩০ টাকা এবং প্রাইভেট কার চলাচলের জন্য ৫০ টাকা হারে ফি আদায়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইজারা পরিচালনার দায়িত্ব পান মো. মহিন উদ্দিন ওরফে মাইনু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমরা ইজারাদারকে ওয়াকওয়ে ইজারা দিয়েছি। ইজারাদার প্রবেশ ফি নেওয়া এখনো শুরু করেনি। তবে ইজারাদার প্রবেশ ফি নিলে সেটি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানান, ওয়াকওয়ে নির্মাণের পর এলাকাটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর আশপাশের জমির দামও বহুগুণ বেড়ে গেছে। নদীর পাড়ে উন্মুক্ত এই ওয়াকওয়েতে কেন প্রবেশ ফি নেওয়া হবে—এমন প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, আগের আমলে কোনো প্রবেশ ফি ছিল না। এখন ইজারা দিলে সাধারণ মানুষের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হবে। সিদ্ধান্তটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে ওয়াকওয়েটি জনগণের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ রাখার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে বিষয়টি নজরে আসার পর শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন একটি খুদে বার্তা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের প্রতিনিধির সঙ্গে শাহরাস্তি ওয়াকওয়েতে প্রবেশের টিকেট প্রথা চালুর বিষয়ে কথা হয়েছে। সাধারণ জনগণের যৌক্তিক আপত্তির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনো টিকেটিং সিস্টেম থাকবে না; ওয়াকওয়ে আগের মতোই উন্মুক্ত থাকবে।’ প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি যে ওয়াকওয়েতে প্রবেশ ফি ও গাড়ি পার্কিং বাবদ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, তবুও ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে প্রবেশ ফি বা পার্কিং চার্জ না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
.png)


