logo
Advertisement

ফটিকছড়িতে পাম্পেই রিফিল হচ্ছে রান্নার সিলিন্ডার, বাড়ছে ঝুঁকি

এশিয়া পোস্ট নিউজ,চট্টগ্রাম
ফটিকছড়িতে পাম্পেই রিফিল হচ্ছে রান্নার সিলিন্ডার, বাড়ছে ঝুঁকি
রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করছেন এক গ্রাহক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হেঁয়াকো বেগবাজারে গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য তৈরি এলপিজি ফিলিং স্টেশনেই অবাধে রিফিল করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার। ফটিকছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে নিয়মিত এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সিলিন্ডার রিফিল করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নিয়মবহির্ভূতভাবে এভাবে গ্যাস ভরায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বাজারদরের তুলনায় কম দামে পাওয়া যাওয়ায় ঝুঁকি জেনেও অনেকে ওই স্টেশন থেকে রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস নিচ্ছেন। সাধারণত বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের প্রচলন থাকলেও এই পাম্পে জোর করে ১৫ থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত গ্যাস ভরা হচ্ছে। বাজারদরের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে পাওয়া যাওয়ায় অনেকেই ঝুঁকির বিষয়টি তোয়াক্কা করছেন না।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের বিক্রয়কর্মী এক গ্রাহকের রান্নার এলপিজি সিলিন্ডারে সরাসরি গ্যাস রিফিল করছেন। ৮০০ টাকার গ্যাস নেওয়া ওই গ্রাহকের কাছ থেকে বেআইনিভাবে সিলিন্ডার ভরাট বাবদ অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সিলিন্ডার ভরাট করার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

মোটরসাইকেলে করে আনা রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস ভরাট করার সময় ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী কামরুল হোসেন জানান, মালিক যেভাবে নির্দেশ দেন, আমরা সেভাবেই বিক্রি করি। অনুমতিপত্র আছে কি না, তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলপিজি ব্যবসায়ী শফিউল আলম ও আবু তাহের জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তারা পাম্পের মালিক আবুল কালাম আজাদকে সতর্ক করলেও তিনি তা মানতে চাননি।

এদিকে বিস্ফোরক আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, অটোমোবাইল ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের জন্য নির্ধারিত এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরযান ব্যতীত অন্য কোনো বহনযোগ্য পাত্র বা সিলিন্ডারে এলপিজি রিফিল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে ২ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, সরকারের যথাযথ অনুমোদন নিয়েই গ্যাস বিক্রি করছি। এতে রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এলাকার গরিব-অসহায় মানুষকে সহায়তা করার জন্যই আমরা সিলিন্ডারে গ্যাস দিয়ে থাকি। তবে দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলপিজি খাতের এক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা জানান, গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানি ও রান্নার এলপিজির প্রেশার এবং ধরন আলাদা। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে পাম্প থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা পঙ্খজ বড়ুয়া বলেন, পাম্প থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। তথ্য-প্রমাণ ও বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আমরা দ্রুত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পাম্প থেকে রান্নার সিলিন্ডার রিফিল করার কোনো সুযোগ নেই। এটি একদিকে যেমন আইন লঙ্ঘন, অন্যদিকে তেমনি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।