logo

অভিযানে বন্ধ করার পরদিনই চালু অবৈধ ইটভাটা

অভিযানে বন্ধ করার পরদিনই চালু অবৈধ ইটভাটা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটায় জরিমানাসহ অবকাঠামোর অংশ ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পরদিনই আবারও চালু হয়েছে সেই ইটভাটা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের একটি যৌথ টিম মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ওয়ারেছ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে। বায়ুদূষণ ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভাটাটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভাটার কিছু অবকাঠামো স্কেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তার। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমসহ জেলা পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের একদিন পর বুধবার (১১ মার্চ) থেকেই ওই ভাটার কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় আলামিন মিয়া, জলিল, সাহেব আলীসহ কয়েকজন বলেন, দায়সারা অভিযান চালিয়ে পুরোটা না ভেঙে অল্প করে ভেঙেছে। সরকারকে অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলায় মোট পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে সাফফাত ব্রিকস পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে। হাসান ব্রিকস অনুমোদন না থাকায় বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মেসার্স এনএস ব্রিকস, মেসার্স ওয়ারেছ ব্রিকস ও এসটি ব্রিকস অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ওয়ারেছ ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মো. আবু ওয়ারেছ ভাটাটি পুনরায় চালুর কথা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযানে ভাটা বন্ধের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ওই ইটভাটার মালিক আদালতের একটি অনুমতিপত্র আমাকে দেখিয়েছেন। তবে আমরা এখনো সেই অনুমতিপত্র হাতে পাইনি।