logo

শিবির নেতার খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
শিবির নেতার খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম
বিক্ষোভ মিছিল শেষে আল্টিমেটাম দেন জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারজাবি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহর খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা ছাত্রশিবির। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে এ আল্টিমেটাম দেন জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারজাবি। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টিার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূইচ দেওয়া হবে।

এর আগে রোববার দুপুরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় সাইফুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করেন যুবদলের বোনার মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বলেন, তফসিল অনুযায়ী গত ১৬ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওই দিন বিকেলে স্থানীয় মাসুম কামাল তার লোকজন নিয়ে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ তাকে জানান, আপনি জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আপনার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। এ সময় মাসুম ও তার লোকজন তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন ও ধস্তাধস্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ।

আজ উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক কাজ শেষ করে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বোনারপাড়া চার মাথায় চায়ের দোকানে বসেছিলেন। মাসুম কামালের মনোনয়ন নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কথা কাটাকাটি হয় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের সঙ্গে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা শিবির কর্মী মুবাশ্বির তার চাচার পক্ষে প্রতিবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।

ঘটনার ১০ মিনিট পর মুবাশ্বির তার রাজনৈতিক সহকর্মী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাহউদ্দিনসহ বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফসহ ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করেন।

এ সময় ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তায় ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় বোনারপাড়ার বাটি গ্রামে অভিযুক্ত মুকুলের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আশরাফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।