logo

খাজনা আদায়ে ভূমি অফিসের ‘হালখাতা’

খাজনা আদায়ে ভূমি অফিসের ‘হালখাতা’

বাংলা বর্ষপঞ্জির শুরু মানে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ আয়োজন। ক্রেতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে এই প্রথা বহুল প্রচলিত। এবার সেই ধারায় যুক্ত হলো একটি সরকারি অফিস। ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা (জমি ভোগ-দখলের সুবিধার জন্য বাৎসরিক কর) পরিশোধে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে আয়োজন করা হচ্ছে ‘হালখাতা’।

বাংলা নববর্ষ ঘিরে এই উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিস। আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল/বাংলা ৩০ চৈত্র) এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। বৈশাখ মাসজুড়ে উপজেলার প্রতিটি ভূমি অফিসে চলবে এই আয়োজন।

উপজেলার ৫টি ভূমি অফিসের অধীন ৯টি ইউনিয়নের ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়। হালখাতা উপলক্ষে সব ভূমি অফিস রাঙানো হবে বর্ণিল সাজে। খাজনা দিতে আসা ভূমি মালিকদের আপ্যায়ন করা হবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার মিষ্টি, মোয়া, মুড়ি, পান ও সুপারি দিয়ে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হালখাতার আয়োজন করা হচ্ছে। দেখা যায়–অনেক ভূমি মালিক ও প্রতিষ্ঠান ব্যস্ততার কারণে সময়মতো খাজনা পরিশোধ করতে পারেন না। হালখাতার ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলা বছরের শুরুতে জমির খাজনা দিতে আগ্রহী হবেন ভূমি মালিকরা। এতে একদিকে সরকারি পাওনা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে আদায় হবে, তেমনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করতে এলে জমিজমা ঠিক আছে কি না, সেটাও ভূমি মালিকরা জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কম হবে। সর্বোচ্চ ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধকারীদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, এক সময় বাংলা বছরের শুরুতে জমির খাজনা আদায়ে হালখাতার প্রচলন ছিল। সময়ের পরিবর্তনে তা হারিয়ে গিয়ে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই পুরোনো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, কমলনগরে ঝামেলামুক্তভাবে খাজনা পরিশোধ করা যায়। গড়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই নামজারি সম্পন্ন করা হয়। দ্রুত নামজারি নিষ্পত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে কমলনগর ভূমি অফিস। আমাদের লক্ষ্য এবার শতভাগ খাজনা আদায় করে সারা দেশে প্রথম হওয়া। ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রায় ৯৭ শতাংশ খাজনা আদায় সম্পন্ন হয়েছে।