নির্বাচন ঘিরে পর্যটক ‘শূন্য’ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরই মধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়েছে নীরবতা; কমেছে পর্যটকের আনাগোনা। বালুকাবেলায় পাশে সমুদ্রে ঢেউয়ের গর্জন থাকলেও কমেছে মানুষের উচ্ছ্বাস। যান চলাচলে সীমিত হওয়ার কারণে হোটেলের অগ্রিম বুকিং বাতিল করে পর্যটক ও এখানকার সাড়ে ৫০০ হোটেল-মোটেলে কর্মরতরা ভোটদানে ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। বলা চলে, ভোটকে কেন্দ্র পর্যটন ব্যবসায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে যান চলাচলে কঠোরতা এবং নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ফলে সীমিত হয়ে এসেছে গণপরিবহন চলাচল। অপরদিকে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে চেকপোস্ট। সেখানে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের করা হচ্ছে তল্লাশি।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে ১০ শতাংশের কম বুকিং রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য করে পর্যটকদের ভোটের আগে কক্সবাজার আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘অনেক বছর পর দেশে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকল পেশার মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটছেন। এদের মাঝে হোটেল কর্মজীবীও রয়েছেন।’
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তল্লাশির কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বুকিংয়ে নিরুৎসাহিত করছি।’
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, আগে-পরের এবং নির্বাচনের দিন মিলিয়ে পর্যটন জোনের তারকা হোটেলগুলোতে ২০ শতাংশ রুমের বুকিং রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে, এদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক।
তারকামানের হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপনন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল বলেন, তিন দিনের ফোরকাস্টে ১৫ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে। এর মাঝে অর্ধেক বিদেশি এনজিওকর্মী। যারা চাকরির খাতিরে কক্সবাজারে অবস্থান করেন। নিরাপত্তার জন্য তারা নির্বাচনের পরেরদিন পর্যন্ত হোটেলে অবস্থান করবেন।
আরেক তারকা হোটেল কক্স টুডে’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব শাহ বলেন, ‘আমাদের দুই শতাধিক রুমের বুকিং রয়েছে মাত্র ২০-২৫টি। নির্বাচনের কারণে বুকিং নিরুৎসাহিত করায় পর্যটক সংখ্যা কমেছে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্ততা রয়েছে। সবাই যেন ভোট দিতে পারে সেজন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময় নিজের এলাকা ত্যাগ করা দৃষ্টিকটু। নিজ এলাকার বাইরে যারা থাকবে, তারা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারে, সেটি ধরে নিয়ে কঠোরতা নিশ্চিত করা হবে। এসব বিবেচনায়, ভোগান্তি এড়াতে নির্বাচনের আগে-পিছে মিলিয়ে তিন দিন পর্যটন এলাকা কিংবা নিজ এলাকার বাইরে ঘুরতে যাবার পরিকল্পনা না করাই উত্তম।
কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে প্রশাসন। প্রতিটি নাগরিকের উচিত ভোটের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করা। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্ভব।’