ফেনীর উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির

ফেনী নদীতে বাঁধ নির্মাণ, জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠাসহ নানা ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ফেনীর উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের দেশে ৬৪টি জেলার কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না। ফেনীতেও সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। এছাড়া ফেনীর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে তৈরি করা হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ফেনীতে যে বাঁধটির কারণে আপনাদের দুঃখ, সেই বাঁধ এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, আমরা জানি পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একটু এ ব্যাপারে ব্যাপার-স্যাপার আছে। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। আশা করি তারাও আমাদের শ্রদ্ধা করবে। তাদের সঙ্গে ফ্রুটফুল ডায়ালগের মাধ্যমে আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে গোটা ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সে সময় আমরা ছুটে এসেছিলাম। ফেনী পর্যন্ত পৌঁছার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মানুষ কোমর পানি ভেঙে চলাচল করেছে, আমিও কোমর পানি ভেঙে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সেদিন আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা শুধু দেখেছি আর চোখের পানি ফেলেছি।’
ফেনী নদী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করেন জামায়াত আমির।
তিনি জানান, আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলায় তাকে খুন করা হয়েছিল। আবরার ফাহাদের রুহকে আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। তাকে আপনাদের কলিজায় একটু জায়গা দিয়ে রাখবেন। সে দেশের ন্যায্য প্রাপ্যতার কথা বলেছিল। যারা আধিপত্যবাদের দোসর, তারা তাকে সহ্য করতে পারেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম ভোটটা দেবেন ‘হ্যাঁ’। হ্যাঁ মানেই আজাদি, না মানেই গোলামি। দ্বিতীয় ভোটটি হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেফাজতের পক্ষে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালক ভাইয়ের সন্তান মেধা বিকাশের মাধ্যমে একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সমান। মা-বোনদের ব্যাপারে অপপ্রচার চালানো হয় যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরের বাইরে বের হতে দেবে না। এটি মিথ্যা। আমরা মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা— দুটিই নিশ্চিত করব। কওমি মাদ্রাসা নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা বলব, কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা।
নির্বাচনি সহিংসতা বা উত্তেজনার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম হালত দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। মা-বোনদের গায়ে হাত তুলবেন না। মায়েদের একটা দীর্ঘশ্বাস আপনাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহ্বান জানান এবং ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে স্থানীয় জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।