logo

সীমান্তে পুশইন/আশ্রয়হীন নারীকে নিয়ে প্রশাসনে ভিন্নমত

আশ্রয়হীন নারীকে নিয়ে প্রশাসনে ভিন্নমত
সীমান্ত দিয়ে পুশইন হওয়া আশ্রয়হীন নারী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন কয়েকজন। কথিত বাংলাদেশি বলে তাদেরকে ঠেলে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তিনি আশ্রয়হীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাকে গাংনী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পিরতলা গ্রামে অবস্থান করছিলেন।

এদিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পিরতলা গ্রামে দেখা যায়, ওই নারী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়রা তাকে খাবার দিলেও স্থায়ী থাকার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

পুলিশ বলছে, ওই নারীকে সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, পুলিশের পক্ষ কোনো তথ্য কিংবা আশ্রয়ের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। দুই পক্ষের বক্তব্যে তথ্যগত অসংগতি থাকায় ওই নারীর প্রকৃত অবস্থা ও দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজেকে রোজিনা নামে পরিচয় দিয়েছেন ওই নারী। তবে বিস্তারিত কোনো ঠিকানা তিনি বলতে পারেননি। স্থানীয়দের অনেকে মাঝেমধ্যে খাবার দিচ্ছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা হয়নি।

গত ৬ জুন এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪ এস সাবপিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনের বাংলাদেশে প্রবেশের কথা বলা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে ছিলেন রোজিনা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্ত অতিক্রমের পর আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি একটি আমবাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

রোজিনার বর্তমান অবস্থান ও পুনর্বাসন বিষয়ে জানতে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১০ বার কল করা হলেও প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘রোজিনা নামের মেয়েটির বিষয়ে শুনেছি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি। আগে নিশ্চিত হতে হবে মেয়েটি মানবপাচারের শিকার কি না এবং তিনি বাংলাদেশের নাকি ভারতের নাগরিক।’

তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হলে আমরা প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেব। নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তার প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পার্সন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান।

তিনি বলেন, আমাদের ভবানীপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ বিষয়টি যথাযথভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। মেয়েটি বর্তমানে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।