logo

তানোরে এসিল্যান্ডের ওপর হামলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩ 

তানোরে এসিল্যান্ডের ওপর হামলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩ 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে এসিল্যান্ডের ওপর হামলা চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ । 

গ্রেপ্তাররা হলেন- তানোর কলমা ইউনিয়নের অমৃতপুর গ্রামের ওহাব আলীর স্ত্রী জমিলা (৩৫), বাঁধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৪৫) এবং একই পরিবারের আরেক পুত্র আব্দুল আওয়াল। শুনানির সময় কার্যালয়ে অফিসের অন্যান্য স্টাফ ও সেবাপ্রার্থী মুনসুর নামে এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও লিখিত মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাকের কার্যালয়ে ভূমি সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তিন ব্যক্তি অন্যায় দাবি নিয়ে হাঙ্গামা শুরু করেন। কথা কাটাকাটির পর জমিলা নামের এক মহিলা এসিল্যান্ডের টেবিলে জোরে থাপ্পড় মারতে থাকেন এবং তিনজন মিলে কর্মকর্তার প্রতি মারমুখী আচরণ করেন এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। 

এ ঘটনায় তানোর থানা পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেয়। অন্যায় আবেদন নিয়ে আলোচনা চলাকালীন সময়ে আসামিরা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথোপকথন তীব্র করে তোলেন। জমিলা টেবিল চাপড়ানোর পর তিনজন মিলে এসিল্যান্ড শিব শংকর বসাকের প্রতি হুমকির সুর তুলে মারামারির উদ্যোগ নেন। অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন তাদের শান্ত করতে চেষ্টা করেন, তখন আসামিরা তাদের প্রতিও মারমুখী আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তানোর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বাদী হয়ে থানায় হেফাজতে থাকা তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৬ (সরকারি কর্মকর্তার কার্যে বাধা), ৩৫৩ (ধমক দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি) ও ৩৩২ (সরকারি কর্মকর্তাকে আঘাতের চেষ্টা) ধারায় তানোর থানায় মামলা করেন (মামলা নম্বর-১৭)।

মামলার বাদী সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বলেন, আসামিরা অন্যায় দাবি নিয়ে হাঙ্গামা করে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন। অফিস স্টাফদের প্রতিও তারা মারধরের হুমকি দিয়েছেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি অফিসে এ ধরনের হাঙ্গামা গ্রহণযোগ্য নয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন, যারা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য সহিংসতার আশ্রয় নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।