অনুমতি মেলেনি, খুলে ফেলা হলো আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার অংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরে মাহফিলের আয়োজন বাতিল করেন আয়োজকেরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফোন করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্যান্ডেল তৈরির কাজও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মানব কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এ মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও অতিথি করা হয়েছিল।
মাহফিলের প্রধান আলোচক হিসেবে প্রচারপত্র ও ব্যানারে মুফতি আমির হামজার নাম উল্লেখ করা হয়। আয়োজকদের দাবি, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও জানিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রচার চালানো হয়। মাঠে বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল।
আয়োজকেরা জানান, মাহফিলের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর আবেদন করা হয়। এরপর শনিবার সকালে অনুমতির বিষয়ে কথা বলতে তারা ইউএনওর কার্যালয়ে যান। সেখানে পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন না আসায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বলেন, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি জানান, মাহফিলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়ে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন না দিলে তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে আয়োজকেরা ধরে নেন, মাহফিলের অনুমতি পাওয়া যাবে না। তাই অতিথিদের ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, অনেক মানুষের সমাগম হয়, এমন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন। এ জন্য পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মাহফিলের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাহফিলের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের নয়। পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে দেয়। মূলত স্থানীয় প্রশাসনই এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে থাকে।
