
হাসপাতালের মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাবা। পাশে স্যালাইনের বোতল হাতে দাঁড়িয়ে তার ছোট্ট ছেলে। স্যালাইন রাখার স্ট্যান্ড নেই, নেই শয্যাও। তাই বাবার চিকিৎসা নির্বিঘ্ন রাখতে নিজের হাতে স্যালাইনের বোতল ধরে দাঁড়িয়ে আছে শিশুটি। এ চিত্র বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের।
ভুক্তভোগী ওই রোগীর নাম শহিদুল ইসলাম। বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের বাসিন্দা তিনি। দুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু শয্যা না পেয়ে তার ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। স্যালাইন দেওয়া হলেও সেটি রাখার স্ট্যান্ড না থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তার ছোট ছেলেকে স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরে জানালার জায়গা পরিবর্তন করে গ্রিলের সঙ্গে স্যালাইনের বোতল বেঁধে রাখেন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি দুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। সকালে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কোনো বেড পাইনি। স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, সেটা রাখার স্ট্যান্ড নেই। বাধ্য হয়ে আমার ছেলে স্যালাইন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এখন জানালার গ্রিলের সঙ্গে স্যালাইন বেঁধে রেখেছি।
শহিদুলের মতো এমন ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে চাপ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে ৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত শয্যার চেয়েও বেশি। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে ৫০টি শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ছবিতে যে রোগীকে মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে এবং তার সন্তানকে স্যালাইনের বোতল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, সেটি সাময়িক পরিস্থিতি ছিল। স্যালাইন ঝোলানোর ব্যবস্থা করার আগ পর্যন্ত শিশুটি বোতলটি ধরে রেখেছিল। পরে স্যালাইন ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ, অন্যদিকে রোগীর তুলনায় সীমিত শয্যা-সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় শয্যা, স্যালাইন স্ট্যান্ড ও চিকিৎসাসেবার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
