logo
Advertisement

সাভারে ঘাটের শ্রমিক সর্দারকে আটকে রেখে নির্যাতন

এশিয়া পোস্ট নিউজ,সাভার (ঢাকা)
সাভারে ঘাটের শ্রমিক সর্দারকে আটকে রেখে নির্যাতন
নির্যাতনের শিকার শ্রমিক সর্দার। বুধবার সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকার সাভারে ঘাটের এক শ্রমিক সর্দারকে আটকে রেখে নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান, ওই শ্রমিক সর্দারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার নুহু শিকদার সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার পশ্চিম জোতপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন শিকদারের ছেলে। তিনি আমিনবাজার কেবলার চর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন ও স্থানীয় ঘাটে সিমেন্ট খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহের কাজ (সর্দারি) করে আসছিলেন।

জানা গেছে, নুহু শিকদারের অধীন প্রায় ৩০-৩৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মধ্যে ১০-১২ জন সোহাগ ট্রাসপোর্ট এজেন্সির কাজের জন্য সরবরাহ করতেন নুহু শিকদার। সম্প্রতি আরেক ব্যবসায়ীর কাজে শ্রমিক সরবাহের ঠিকাদারি নেন নুহু শিকদার।

নুহু শিকদার দাবি করেন, আরেক ব্যবসায়ীর কাজ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ ট্রাসপোর্ট এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহাগ। গত সোমবার দুপুরের দিকে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে সোহাগ ৮-৯ জন সহযোগীসহ তাকে তুলে নিয়ে কেবলার চরের অফিসে আটকে রাখে। সেখানে স্টিলের পাইপ ও রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সোহাগের ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোহাগ আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফালানের ঘনিষ্ট বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে মো. ফালান জানান, সোহাগ তার আত্মীয়। তিনি কোনো অন্যায়-অপরাধকে সমর্থন করেন না। পুলিশের কাছে তিনি কোনো ধরনের সুপারিশ করেননি। অপরাধী যে-ই হোক আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।