logo
Advertisement

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যা, প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নারায়ণগঞ্জ
ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যা, প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দলীয় নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

Advertisement

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবরোধের কারণে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে, বুধবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে বুলবুলের মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় শেখ সিফাত নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন বুলবুল। মামলা করার পর থেকে প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের।

বুধবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে দেখে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ধারাল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুলবুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার রাতে বন্দরে বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। তারা সড়ক ও বন্দর রেললাইন অবরোধ করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ এশিয়া পোস্টকে জানান, বুলবুলকে হত্যার পর পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করেছিল, জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা রাতের অবরোধ তুলে নেন।

তিনি জানান, রাত প্রায় ২টা থেকে ৩টার দিকে একজন আসামি গ্রেপ্তারের খবর পেলেও তার পরিচয় ও ছবি নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। গ্রেপ্তার ব্যক্তি দুর্ধর্ষ ক্যাডার বলে জানতে পারেন তারা। এ কারণে সকালে আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর অংশে অবরোধ করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, পুলিশ রাতেই ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতও রয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।