‘আমি নামতে চাইনি, বাবা বলাতে নেমেছি’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বাসটির যাত্রীরা। দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে ফেরা যাত্রী রাফা জানান, বাবার কথা শুনে শেষ মুহূর্তে বাস থেকে নেমে যাওয়ায় তিনি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার আগে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে যাত্রী রাফা বলেন, ‘অনেক যাত্রী নেমে গিয়েছিল। আমি একদম শেষের দিকে ছিলাম। নামতে চাইনি, কিন্তু বাবা বলায় নামতে শুরু করি। আমি যখন পা দিয়ে নামছি, তখন বাসটি স্টার্ট করে। সামনে একটি মোটরসাইকেল আসছিল। সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে চালক হঠাৎ ব্রেক করেন। এরপর ব্রেক ফেল করে বাসটি দ্রুত ফেরির ঢালা ভেঙে নদীর পানিতে পড়ে যায়।’
নৌপুলিশ ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটির চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে দৌলতদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তারা আহত হলেও শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা থাকবেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাসটিতে মোট ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগে সবাই বাস থেকে নেমে গিয়েছিলেন। বাসের ভেতরে শুধু চালক ও হেলপার ছিলেন। তাদেরও দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, এটি স্বস্তির বিষয়।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বাসটি উদ্ধারের পরও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
এদিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
