logo

হারিয়ে যাওয়া কিশোরের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা, অতঃপর…

হারিয়ে যাওয়া কিশোরের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা, অতঃপর…

সময় বিকেল ৫টা, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)। উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা করছে এক কিশোর। বয়স ১১-১২ বছর হতে পারে। তাকে দেখে সন্দেহ হয় কয়েকজন যুবকের। এগিয়ে গিয়ে তারা জানতে চাইলেন–কিশোরের পরিচয়। সে বলল–তার নাম, ইদ্রিস মিয়া; বাবার নাম সজিব। কোথায় তার বাড়ি, কেন এখানে, যাবে কোথায়–কিছুই সে জানে না।

ঘটনার খবর পায় পুলিশ। তারা কিশোরকে হেফাজতে নেয়। টানা তিন দিন চেষ্টার পর পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুরের শিবচর থানায় বাবা সজিব মিয়ার কাছে কিশোরকে হস্তান্তর করা হয়।

থানায় এসে ছেলেকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সজিব মিয়া। দীর্ঘদিন পর বাবা-ছেলের এই মিলন মুহূর্তে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে।

নানাবাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ
পরিবার জানায়, সজিব মিয়া ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা। তার ছেলে ইদ্রিস মিয়া ২০২৩ সালের ১৮ মে নিখোঁজ হয়। সে ওই দিন সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর আনন্দ বাজার এলাকায় নানাবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। কিন্তু সে নানাবাড়িতে না যাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার। দীর্ঘ সময় খোঁজার পর না পেয়ে তারা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।

ইদ্রিস মিয়ার নানা আবু মোতালেব এশিয়া পোস্টকে বলেন, নাতি আমার বাড়িতে আসার জন্য তাদের বাড়ি থেকে রওনা দেয়। কিন্তু আমার বাড়িতে সে আসেনি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তাকে পাইনি। তিন বছর পর নাতিকে পাওয়া গেছে শুনলাম।

যেভাবে সন্ধান মিলল
পুলিশ জানায়, শিবচর উপজেলান শিরুয়াইল ইউনিয়নের উৎরাইল বাজার থেকে কিশোর ইদ্রিস মিয়াকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত করতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমাজসেবা অফিস এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কিশোরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
ছেলের ছবি দেখতে পান ফরিদপুরের বাসিন্দা সজিব মিয়া। তিনি যোগাযোগ করেন শিবচর থানায়। পরে স্বজনদের নিয়ে শিবচরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কিশোরকে তার বাবা সজিব মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইদ্রিস মিয়ার বাবা সজিব মিয়া বলেন, এমন কোনো জায়গা নেই, আমার ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করিনি। পুলিশ আমার ছেলেকে খুঁজে দিয়েছে। তিন বছর পর আমার কলিজার টুকরাকে কাছে পেয়েছি। 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছেলেটা এতদিন কোথায় ছিল, আমরা জানতে চেয়েছিলাম। সে কিছুই বলতে পারে না। শুধু নিজের নাম ও বাবার নাম ছাড়া কিছুই বলে না।

তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া কিশোরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা জনগণের পাশে রয়েছি। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে পুলিশ সবসময় সক্রিয় থাকবে।