logo

একই চত্বরের তিনবার নাম বদল, এবার ‘শহীদ জিয়া চত্বর’

একই চত্বরের তিনবার নাম বদল, এবার ‘শহীদ জিয়া চত্বর’
নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্বরের নাম ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের একটি চত্বরের নাম গত কয়েক বছরে তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ নামে যাত্রা শুরু করা স্থানটি পরে ‘ওসমান হাদি চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’। একই স্থানে বারবার নাম পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ স্থাপন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চত্বরটির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির তৎকালীন সদস্য ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

মুজিববর্ষের স্মারক হিসেবে চত্বরের নাম রাখা হয় ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’। পুরোনো ছবি
মুজিববর্ষের স্মারক হিসেবে চত্বরের নাম রাখা হয় ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’। পুরোনো ছবি

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এর ধারাবাহিকতায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ওই চত্বরকে ‘ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে একই স্থানে নতুন নামফলক স্থাপন করে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ উদ্বোধন করা হয়। নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমে নতুন নামকরণের ঘোষণা দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর চত্বরের নাম রাখা হয় ‘ওসমান হাদি চত্বর’। ছবি : এশিয়া পোস্ট
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর চত্বরের নাম রাখা হয় ‘ওসমান হাদি চত্বর’। ছবি : এশিয়া পোস্ট

একই স্থানের নাম বারবার পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান স্থাপনা ও চত্বরের নাম পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিবর্তে একই জায়গাকে নতুন নামে পরিচিত করার এই চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কোথাও কারও নামফলক মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে চত্বর করার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেই।

তার ভাষায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সস্তা রাজনীতি করেন না। নোয়াখালীতে কেউ এমন উদ্যোগ নিয়ে থাকলে তার দায় বিএনপির নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে চত্বরের নাম পরিবর্তনের রাজনীতির সমালোচনা করেন এই যুবদল নেতা।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, কোনো চত্বরের নামকরণ করতে হলে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয়। মুজিব চত্বরের নামকরণের সময় সেই অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই। একইভাবে ওসমান হাদি চত্বর ঘোষণার ক্ষেত্রেও সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানি না।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ শহীদ জিয়া চত্বরের নামকরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদই ভালো বলতে পারবেন।

নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যথাযথভাবে সম্মানিত করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সেই উপলব্ধি থেকেই তার নামে একটি চত্বরের নামকরণ করে তাকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।