নিখোঁজ মা-মেয়ে-নাতনিসহ ৫ জন, দুই মাসেও মেলেনি সন্ধান
-155eb7-720x405.webp)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন শিশুসহ পাঁচজন প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ আগস্ট উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রাম থেকে তারা নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তনা বেগম (৪৫), বড় মেয়ে জিনাত আকতার (২৫), জান্নাতুল মাওয়া আরশ (১২), সাজ্জাদুর রহমান সানি (৮) এবং আড়াই বছর বয়সী নাতনি হুজাইফা খাতুন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকেলে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী, মেয়ে, নাতনিসহ পাঁচজন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ওই দিন রাতে সাইফুল ইসলাম বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
সাইফুল ইসলাম জানান, পরে তিনি বাড়িতে থাকা নগদ ৮১ হাজার টাকা, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও কিছু আসবাবপত্রও খুঁজে পাননি। এতে নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, নিখোঁজের ঘটনায় গত ৫ আগস্ট তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ জিডি না নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে তার মতবিরোধ হয়। তার দাবি, রাজনৈতিক চাপের কথা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি নেয়।
তবে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে—স্বজনদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচজনকে খুঁজে বের করতে দেশের সব থানায় তাদের ছবি ও পরিচয়সংবলিত বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তিন শিশুসহ পাঁচজনের সন্ধান দুই মাসেও না পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
