জমি বিক্রি না করায় দরজার সামনে পাকা দেয়াল, ঘরবন্দী বিধবা

জমি বিক্রি না করায় ঘরের দরজার সামনেই পাকা দেয়াল তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী জমির মালিকের বিরুদ্ধে। ফলে ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে ঘরের ভেতরেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিধবা নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তান।
মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকাযর এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হতে পারে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই একজন মানুষের বসতঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
ভুক্তভোগী জানান, রাজৈর মৌজার বিআরএস ১৩৫ নম্বর খতিয়ানের ৮৪৪৬ ও ৮৪৪৯ নম্বর দাগে মোট সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ছিল নারগিস বেগমের শাশুড়ির মালিকানাধীন। পরে তার ছেলে আলী আকবর বেপারীর নামে এক শতাংশ জমি লিখে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে দেন তার শাশুড়ি। ওই বিক্রি করা জমির ক্রেতা হন আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে আজাদ রহমান লিটু। স্বামী আলী আকবর মারা যাওয়ার পর নিজের নামে থাকা ওই এক শতাংশ জমির ওপর ছোট একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন নারগিস। স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিই হয়ে ওঠে তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয়।
নারগিসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এক শতাংশ জমিটিও বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নিজের শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর আশঙ্কায় তিনি জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। এরপর থেকেই চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১১ আগস্ট নারগিস বেগম আদালতের দ্বারস্থ হন। তার করা ১৪৫ ধারার মামলার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বিরোধপূর্ণ স্থানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নারগিসের অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশের পরও গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে আজাদ রহমান লিটু তার লোকজন নিয়ে এসে ঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেন।
দেয়াল নির্মাণের পর ঘরের মূল প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাইরে বের হওয়া তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে ঘরে ঢোকা-বেরোনোর সুযোগও হারান নারগিস ও তার সন্তানরা।
নারগিস বেগম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার মাত্র এক শতাংশ জায়গা। পাশের চাচা-শ্বশুরের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সুযোগে আমার জায়গাটা তার কাছে বিক্রি করে দিতে বলেছিলেন। আমি রাজি না হওয়ায় দেয়াল তুলে আমাকে আটকে দিয়েছেন। আমার ঘরের দরজার সামনেই দেয়াল করা হয়েছে। এখন আমি বের হব কীভাবে? আমি এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজাদ রহমান লিটুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেয়াল নির্মাণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে রাজৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। এ সময় বিএনপির দুই নেতা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
রাজৈর পৌরসভার প্রশাসক রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, যেকারোরই চলাচলের রাস্তা দিতে হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তা তাকে দিতে হবে। নাগরিক হিসেবে অবশ্যই রাস্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে আগে জানি, পরে আপনাদের জানানো হবে।


