পাতলী খালের পাড়ে ফিরল পুরোনো স্মৃতি

বৃষ্টিস্নাত সকাল। কারও হাতে জাতীয় পতাকা। কারও হাতে দলীয় পতাকা। আবার কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল এলাকায়।
এদিন ভোর থেকে ছাতা হাতে মানুষ জড়ো হতে থাকেন সেখানে। তখন অনেকে খালপাড়ে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন প্রায় পাঁচ দশক আগের একটি দিনের। যেদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে যেন ফিরে এলো সেই ৪৭ বছর আগের মুহূর্ত। পিতার খনন করা সেই একই খালপাড়ে এসে দাঁড়ালেন ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন করলেন পাতলী খাল পুনঃখনন।
তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ সরকারের কর্মকর্তারা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি চালিয়ে আসেন পিএমখালী এলাকায়। তার আগমন ঘিরে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সি মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। তবে নিরাপত্তার মধ্যেও মানুষের আগ্রহে কোনো ভাটা ছিল না। অনেকেই মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের মুহূর্ত ধারণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, পাতলী খালটি ভরাট ও সংকুচিত হয়ে কার্যকারিতা হারায়। কৃষিকাজ ও সেচ ব্যবস্থায় নানা সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে খালটি পুনঃখননের জন্য দাবি ছিল।
অনুষ্ঠানস্থলে আসা ৬৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ আবদুস সালাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন খাল কাটতে আসেন, তখন আমি তরুণ। নিজে হাতে কোদাল চালিয়েছিলেন। আজ তার ছেলেও একই খালের জন্য আসলেন। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।
সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ একাধিক সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে কক্সবাজার সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি চালিয়ে হিলটপ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, পিএমখালীতে কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুর ১২টায় সেখানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং পার্ক পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়া এলাকায় গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন।
জোহরের নামাজ আদায়ের পর বিকেল তিনটায় পেকুয়ার সাঈদ ম্যানশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
বিকেল ৪টায় তিনি চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। জনসভা শেষে কক্সবাজার শহরে ফিরে বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করবেন।
রাত ৮টায় কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলের অডিটরিয়ামে জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ৯টায় সপরিবারে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, পুরো কক্সবাজারে তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো কক্সবাজারকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়ে আনা হয়েছে।
