ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ৬ বছরের শিশুকে হত্যা, রহস্য উদ্ঘাটন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে সৌদি প্রবাসীর ছয় বছরের শিশুকন্যা নিশাত জাহানকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশাচালক মো. ইছা মিয়াকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইর পুলিশ সুপার সচীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে। সেদিন চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার শিশুকন্যা নিশাত জাহান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের দুই দিন পর, ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির অদূরে একটি পতিত জমি থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নিশাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে স্থানীয় অটোরিকশাচালক ইছা মিয়ার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মুখে সে স্বীকার করে যে, ঘটনার দিন প্রলোভন দেখিয়ে সে শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে যায়। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর রাতে নিজের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে এবং বিষয়টি ফাঁস হওয়ার ভয়ে ইছা মিয়া তাকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে মরদেহটি বস্তায় ভরে ঘরে লুকিয়ে রাখে এবং সুযোগ বুঝে পরের রাতে বিলের মধ্যে ফেলে দেয়।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এই মামলাটি বর্তমানে স্ব-উদ্যোগে তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে।