খাল দখল নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি-জামায়াতের ত্রিমুখী সংঘর্ষ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খালের দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন, বিএনপি কর্মী কবির হোসেন, ছাত্রশিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ, শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন, আক্তার হোসেন, নাজমা খাতুন, মোমিন মোড়ল ও লায়লা বেগম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের অর্ধ্বশতাধিক ব্যক্তি সংক্রান্তির খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ নেতাকর্মী মাছ শিকারে বাঁধা দিলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে কমপক্ষে সাত থেকে আটজন আহত হন। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে বিএনপির কিছু কর্মী শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ধাওয়া করে রাস্তা থেকে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
সংঘর্ষের বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, চৈত্র মাস শেষ হতেই ওই খালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। নুতন করে সরকার ইজারা না দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল সেখানে মাছ চাষ করছিলেন। এলাকার দরিদ্র মানুষরা শুক্রবার ওই খালে মাছ শিকারে যাওয়ার পর আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন।
এ সময় নিজেদের চারজন আহত হয়েছে-দাবি করে তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ সাদকে কুপিয়েছে বিএনপির কিছু কর্মী।
অভিযোগের বিষয়ে আজহারুল বলেন, মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন। আগে থেকে খালে মাছ ছাড়ায় তিনি বাঁধা দিয়েছিলেন। তবে রড, শাবল ও দা নিয়ে জামায়াত নেতা শাহিনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের ৯ জনকে আহত করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা আজহারুলকে বিএনপির সমর্থক বলে জানিয়েছেন। তার ইজারা নেওয়া খালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাছ ধরতে গেলে বাধার মুখে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের কুপিয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় দুজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি একটি খালের দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
