দুই বছর পর মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার চালু

দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও প্রাণ ফিরেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি)। সীমিত পরিসরে ওটি চালুর প্রথম দিনেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক দরিদ্র প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন। বিনা খরচে এই চিকিৎসাসেবায় সুস্থ আছেন মা ও নবজাতক, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন গোন্দারদিয়া গ্রামের মো. জাকিরের মেয়ে মোসাম্মৎ জান্নাতি (১৮)। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
পরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের ওটিতে জান্নাতির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং এক সুস্থ নবজাতকের জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনই সুস্থ রয়েছেন।
অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন চিকিৎসক ডা. সৌরিয়া সুলতানা। তাকে সহযোগিতা করেন ডা. শাহবাজ খান। অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওটি ইনচার্জ ফারজানা আহাম্মেদ চৈতি।
দীর্ঘদিন পর ওটি চালু ও প্রথম দিনেই সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালেই এই সুযোগ পাওয়ায় জটিল প্রসূতিদের দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
মোসাম্মৎ জান্নাতির দাদি সুফিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা খুবই গরিব মানুষ। নাতনিকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম—কোথায় যাব, কীভাবে চিকিৎসার খরচ দেব। কিন্তু এই হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা অনেক ভরসা পেয়েছি। সুন্দরভাবে চিকিৎসা পেয়েছি, অপারেশনও সফল হয়েছে। আমার নাতনি ও তার সন্তান দুজনই ভালো আছে—এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!
তিনি আরও বলেন, বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। এই হাসপাতালে যদি এভাবে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাহলে এলাকার গরিব মানুষের অনেক উপকার হবে। আমরা চাই, এই সেবা যেন আর বন্ধ না হয়।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সারোয়ার বলেন, ওটি সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে নতুন এক ধাপ অগ্রগতি হলো। প্রসূতি ও নবজাতককে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যদি হাসপাতালে একজন গাইনি ও একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা যায়, তবে নিয়মিতভাবেই এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে মধুখালীসহ আশপাশের এলাকার প্রসূতিরা উপকৃত হবেন।


