Advertisement

ফরিদপুরে ৮৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫১৫টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

তাওহিদুল ইসলাম
ফরিদপুরে ৮৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫১৫টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রকট হয়ে উঠেছে প্রধান শিক্ষকসংকট। জেলার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনেকাংশেই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে।

Advertisement

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একদিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বিদ্যমান শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও ৮৮৮টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৭৩ জন। অর্থাৎ শূন্য রয়েছে ৫১৫টি পদ।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবেও প্রধান শিক্ষকসংকটের চিত্র স্পষ্ট। ফরিদপুর সদরে ১৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮০ জন; শূন্য রয়েছে ৭৩টি পদ। মধুখালীতে ৯৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৫ জন, শূন্য ৫১টি। সদরপুরে ১৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৪৩ জন; শূন্য ৮৭টি।

ভাঙ্গায় ১২০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪৯ জন এবং শূন্য রয়েছে ৭১টি পদ। চরভদ্রাসনে ৫৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৭ জন, শূন্য ১৭টি। সালথায় ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৪ জন এবং শূন্য ৫২টি পদ।

নগরকান্দায় ৮৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩০ জন; শূন্য ৫৪টি। আলফাডাঙ্গায় ৭৩টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ১৯ জন; শূন্য ৫৪টি। আর বোয়ালমারীতে ১০২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬ জন এবং শূন্য রয়েছে ৫৬টি পদ।

জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। কোথাও কোথাও বছরের পর বছর স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নির্ভর করছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের ওপর।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিসহ নানা দায়িত্ব।

ফলে একজন শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন তার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকের ওপর পড়ে। এতে শিক্ষকস্বল্পতার প্রভাব আরও প্রকট হয় এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপও কমবে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ফরিদপুর জেলার ৫১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিষয় :