logo

মৃত্যুর চার মাস পর দেশে এলো প্রবাসীর লাশ

মৃত্যুর চার মাস পর দেশে এলো প্রবাসীর লাশ
প্রবাসী রমজান আলীর জন্য খোঁড়া কবর। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পরিবারের সুখের আশায় এক যুগ আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার রমজান আলী। অসুস্থ বাবার সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের বাড়ি মা-বাবা মঞ্জিল। দেশে ফিরে নববধূকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে রমজানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

শেষবারের মতো এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উঠানে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাড়ির পাশে দাফন করা হয় রমজান আলীকে।

নিহত রমজান আলী জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আগপয়লা ঠেঙ্গেপাড়া এলাকার মো. রহিম বাদশার ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ বাবার সংসারের হাল ধরতে প্রায় ১২ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে পাড়ি জমান রমজান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য নির্মাণ করেন একটি বাড়ি। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে বাড়িটির নাম রাখেন মা-বাবা মঞ্জিল। আট মাস আগে প্রবাস থেকে পরিবারের পছন্দে ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন তিনি।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান রমজান আলী। দীর্ঘ চার মাসেও দেশে আনা সম্ভব হয়নি তার মরদেহ। এতে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টে দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের। জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেন।

আরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন মরদেহ দেশে না আসায় পরিবারটি অনেক কষ্টে ছিল। জানতে পেরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় অবশেষে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

ছেলের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা মো. রহিম বাদশা। অসুস্থ বৃদ্ধ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলেটা সংসারের জন্য বিদেশ গিয়েছিল। আমার অসুখের পর সংসাসের সব দায়িত্ব নিয়েছিল। কত কষ্ট করে টাকা পাঠাইছে, বাড়ি করছে। ঈদে বাড়ি আসব কইছিল কিন্তু লাশ হয়ে আসবে–এটা কোনোভাবে ভাবতে পারিনি।

মেলান্দহ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএও) জিন্নাতুল আরা বলেন, আমাদেরকে এ বিষয়ে জানানো হয়ন উপজেলা পরিষদ থেকে লাশ দাফনের জন্য একটা প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার কথা সেটিও তারা নেননি।