logo

ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর রংপুরের স্লুইসগেট ক্যাফে পার্ক

ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর রংপুরের স্লুইসগেট ক্যাফে পার্ক
রংপুরের পীরগাছায় আলাইকুমারী খালের পাড়ে সদ্য গড়ে ওঠা ‘স্লুইসগেট ক্যাফে পার্কে’ ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রংপুরের পীরগাছার ‘স্লুইসগেট ক্যাফে পার্ক’। গ্রামীণ আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন এই ক্যাফে পার্কে।

পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদাহ আলাইকুমারী খালের স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। আলাইকুমারী খালের ওপর নির্মিত এ ক্যাফে পার্কে নেমেছিল দর্শনার্থীদের ঢল।

সরেজমিনে ক্যাফে পার্কের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ডান পাশে সারি সারি মোটরসাইকেল রাখা এবং বাম পাশে খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতু। যেখানে দর্শনার্থীদের ছবি তোলার হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। পীরগাছা ও মিঠাপুকুর উপজেলার পাশাপাশি বিভাগীয় শহর রংপুর থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন সবুজ শ্যামলে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশের এই ক্যাফেটিতে। মাত্র ১০ টাকার টিকিটে খালের ওপরের কাঠের সেতুতে ছবি তোলার সুযোগের পাশাপাশি ক্যাফেটিতে রয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা মূল্যের ১৪ রকমের চা। এছাড়া মালাই চা ও বাটার চা-এর সঙ্গে পোড়া রুটির প্যাকেজের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে ফুসকা, চটপটি ও নুডুলস।

পীরগাছার বড়দারগাহ এলাকার শিক্ষার্থী ফিরোজ মিয়া চার বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে এসে বলেন, ফেসবুকে দেখেছিলাম জায়গাটা অনেক সুন্দর। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে অবসর সময় পেয়ে এখানে ঘুরতে আসলাম। সত্যি জায়গাটা খুব চমৎকার। পড়াশোনার ফাঁকে এমন জায়গায় এলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, যা নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করতে সাহায্য করে।

পীরগাছার পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই ছেলেকে নিয়ে পার্কটি দেখতে এসেছি। ওদের নিয়ে বেশ আনন্দ করলাম। খুবই সুন্দর পরিবেশ, খাবারের মানও ভালো। তবে দর্শনার্থীদের ভিড়ের তুলনায় জায়গাটি কিছুটা ছোট মনে হয়েছে।

রংপুর নগরীর মূলাটল এলাকার শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার জানান, বান্ধবীদের কাছে এই পার্কটির সৌন্দর্যের প্রশংসা শুনে তারা সবাই মিলে ঘুরতে এসেছেন। খালের ওপর এমন সুন্দর পরিবেশের পার্কে চমৎকার সময় কাটছে। বিনোদনের জন্য গ্রামের ভেতর এমন পার্ক সত্যিই প্রশংসনীয়।

নাগদাহ আলাইকুমারী পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা নয়ন জানান, গত ১২ অক্টোবর পার্কটির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। পার্কের জায়গাটি তাদের সমবায় সমিতির মালিকানাধীন। পার্কের ভাড়া বাবদ প্রতিদিন ১৫০ টাকা সমিতির নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, এই পার্কটির মাধ্যমে এলাকার প্রায় ২০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জন দর্শনার্থী আসেন। পার্কটিকে এই অঞ্চলের অন্যতম বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।

পারুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় আগে এখানে অল্প কিছু মানুষ আসতেন। তবে ক্যাফে পার্কটি গড়ে ওঠার পর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। একে কেন্দ্র করে পার্কের চারপাশে বেশ কিছু দোকানপাট গড়ে উঠেছে, ফলে পুরো এলাকাটি এখন একটি ছোটখাটো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।