তেলের দাম বাড়লেও সংকট কাটেনি, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

জ্বালানির দাম বাড়লেও গাজীপুরে সংকট অব্যাহত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না বাস ট্রাক ও মোটরসাইকেল। গাজীপুরের শতাধিক তেলের পাম্পের কর্মীরা বসে বসে অলস দিনযাপন করছেন। অপরদিকে দূরদূরান্ত থেকে আসা বাস ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অন্য যানবাহন চালকেরাও পাম্পে তেলের আশায় বসে থাকছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে গাজীপুরের অন্তত ১২টি পাম্পে ঘুরে দেখা যায় কোথাও জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না৷ তবুও বিকেলে তেল পাবে এমন আশায় সকাল হতেই পাম্পে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। কেউ গাড়িতে বসে মোবাইল চালাচ্ছেন, কেউ একে অপরের সঙ্গে গল্প করছেন৷ অনেকের মুখে বিরক্তির ছাপ, অনেকেই আবার সিরিয়াল দিয়ে হাতের কাজ শেষ করতে চলে গেছেন।
তেলের ভোক্তারা বলেন, এখানকার চার পাঁচটা পাম্পে বিকেলে তেল দেওয়া হবে এই কথা শুনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। একদিকে তেল পাচ্ছেন না অপরদিকে মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এটা জীবনযাত্রার ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়াবে। শুধু দাম নয় তাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের৷ এছাড়াও সরকারের কাছে দ্রুত আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান তাদের৷
কালিয়াকৈরে স্বপ্ন ফিলিং স্টেশনে কথা হয় সোহেল নামে এক বাইকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২ সপ্তাহ আগে ১১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পেয়েছিলাম। এখন তেল শেষ এ জন্য অপেক্ষায় রয়েছি, জানি না আজ কখন তেল পাব অনিশ্চিত অবস্থায় অপেক্ষায় রয়েছি। আমার মতো শতশত মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, জীবিকা হারিয়ে মারাত্মক দুর্বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকেরা। অপরদিকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল পাওয়ায় তারা ভোক্তার চাহিদামাফিক তেল দিতে পারছেন না।
এদিকে, শনিবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে, যা আজ হতে কার্য়কর হয়েছে। এবার ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা।
এর আগে, ২০২২ সালের আগস্টে অকটেনের দাম সর্বোচ্চ ১৩৫ ও পেট্রলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই মাসে আবার দাম ৫ টাকা কমিয়ে ১৩০ ও ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।