logo

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার মাটি লুট

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার মাটি লুট
৭০০ টাকা মজুরিতে মাটি তোলার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পাবনার দোগাছি ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার সেখানকার মাটিও তুলে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি মাটি নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির স্বজনেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি দিয়ে বাড়িটির দোতলা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি বাড়ির মাটিও তুলে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে লোকজনকে। অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ওই মাটি দিয়ে আশপাশের রাস্তা মেরামত করছেন। এ কাজে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের প্রতিদিন ৭০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

মান্নাফ হোসেন নামের এক শ্রমিক জানান, প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে মাটি সরানোর কাজ করছেন তিনি। এই মাটি দিয়ে এলাকার রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এখানে একটা মাটিও রাখা হবে না। পুকুর করে মাছ চাষ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, এত বড় ভবন ভেঙে ফেলা হলেও মামলার কাগজপত্র এখনো প্রস্তুত হয়নি। বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি দ্রুত বিচার শেষ করে আসামিদের ফাঁসির দাবি জানান।

নিহত শিশুর দাদা আব্দুস সোবহান পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সঙ্গে অবিচার করেছে এবং তাদের কথায় যথাযথ সাড়া দেয়নি। তার ভাষ্য, পুলিশ যথাযথ সাড়া দিলে ঘটনাটি এত দূর গড়াত না। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এখনও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়নি এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনও তারা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আব্দুস সোবহান।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফরেনসিক প্রতিবেদনও হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও যথাযথ সাড়া পাননি। পরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদের মধ্যে নিখোঁজের সপ্তম দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন নিহত শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে হয়তো শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।