বাল্যবিবাহ পড়াতে গিয়ে জেলহাজতে কাজি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ পড়ানোর প্রস্তুতির অভিযোগে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজি) কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশ ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে, ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীর সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তির বিয়ের আয়োজন চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে দেন। এ সময় উপস্থিত নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মো. জাকির হোসেন বাল্যবিবাহ সম্পাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একটি খসড়া রেজিস্ট্রার খাতা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বর, তার বাবা-মা এবং বিয়ের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ ধরনের তৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।



