Advertisement

বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপিপুত্রের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পটুয়াখালী
বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপিপুত্রের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক
নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপি পুত্র রায়হান তালুকদার আকাশ (দাঁড়িয়ে সাদা শার্ট পরা)। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী (সুপারভাইজার) পদে নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার হলে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রায়হান তালুকদার আকাশের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা চলাকালে রায়হান তালুকদার আকাশ মোবাইল ফোন হাতে কিছু সময় পরীক্ষাকক্ষের ভেতরে অবস্থান করেন। তাদের ভাষ্য, একজন বহিরাগত ব্যক্তির এভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ এবং মোবাইল ফোন বহন করা পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার হলে বহিরাগত একজন ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের বিস্মিত করেছে। মোবাইল ফোন হাতে তার অবস্থান পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করেন, যা অনেক পরীক্ষার্থীর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।

আরেক পরীক্ষার্থী জাফর ইকবাল বলেন, পরীক্ষার হলে বহিরাগত কারও মোবাইল ফোন নিয়ে অবস্থান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

একই ধরনের দাবি করেন পরীক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন। তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে রায়হান তালুকদার আকাশ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি পরীক্ষার সময় হলে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে বেশিক্ষণ থাকিনি, অল্প সময়ের জন্য ছিলাম।

বিষয়টি সম্পর্কে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরীক্ষার হলে অবৈধভাবে কারও অবস্থান করার সুযোগ নেই। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।