logo

সিলেটে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত, দুই চালক পলাতক

সিলেটে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত, দুই চালক পলাতক
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। স্বজনদের কাছে একে একে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই দুই গাড়ির চালক পলাতক। তাদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ৯ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এখন মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দুই চালককে ধরতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়; পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে শিশু ফাইজা (৪), সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার পর ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের ডান পাশে ধাক্কা দেয়। এই আঘাতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে গিয়ে পড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানান, সামনে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়েই বিপরীত লেনে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি। তখনই দুই বাসের সংঘর্ষ ঘটে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীতে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। একজনের সিটিস্ক্যান এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চারজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিদের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

বাদ জুমআ আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, হতাহতদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।