logo
Advertisement

ঘরে ঢুকে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,চট্টগ্রাম
ঘরে ঢুকে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী গ্রেপ্তার
নিহত এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘরে মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Advertisement

রোববার (১৪ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তেজপ্রিয় বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়া (২৫) আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া গ্রামের সুজন বড়ুয়ার বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে (১৬) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় এনি বড়ুয়ার ৫ বছর বয়সি ছোট ছেলে পিয়াস বড়ুয়াকেও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত এনি বড়ুয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে হামলাকারী হিসেবে প্রতিবেশী যুবক তেজু বড়ুয়ার নাম প্রকাশ করে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। শিশু পিয়াস বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম শহরে একটি সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী তেজু বড়ুয়া তার কাছ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন তেজু।

আনোয়ারা থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই আসামি তেজু বড়ুয়া এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তেজপ্রিয় বড়ুয়া তেজুকে একমাত্র নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা-পুলিশের একটি যৌথ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পটিয়ায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এই অভিযান পরিচালনা করে।