স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে হেনস্তা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন কয়েকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা। তারা প্রধান শিক্ষিকাকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন এবং টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান।
আহত শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম বলেন, ৬০-৭০ জন লোক আমাকে ঘিরে ধরে হামলা করে। কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। আমাকে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার মোবাইল ও টাকাপয়সাও নিয়ে গেছে। এখানে আওয়ামী লীগের লোক ও বিএনপির লোক ছিল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাহিদা বেগম বলেন, একজন নারী শিক্ষকের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন আমিনুল ইসলাম সুজন। জাল সনদ ধরা পড়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি সুজন দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে। এমন দাবি করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম সুজন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি পুনরায় যোগদান করতে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে ‘কিছুটা ঝামেলা’ হয়েছে।
সোহেল রানা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো হামলায় অংশ নেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহমেদ জানান, ঘটনার কথা শুনেছেন। কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।