logo
Advertisement

‘কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না’, ধরা পড়ার আগে পুলিশের সঙ্গে মোবারকের কথোপকথন

এশিয়া পোস্ট নিউজ,চট্টগ্রাম
‘কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না’, ধরা পড়ার আগে পুলিশের সঙ্গে মোবারকের কথোপকথন
মোবারককে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঘরের ফলস ছাদের ওপর ছটফট করছিলেন চট্টগ্রাম নগরের একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’। দরজার ওপারে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। ঘেরাও টের পেয়ে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ফলস ছাদ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে একে একে ছয়টি গুলি ছোড়েন মোবারক। মুহূর্তেই থমথমে হয়ে ওঠে চারপাশ। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

Advertisement

ঘটনাটি গত বুধবারের। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় মোবারককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে শুধু গুলির লড়াই নয়—ঘটনাস্থলে পুলিশ ও মোবারকের মধ্যকার টানটান সংলাপের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে।

ভিডিওতে শোনা যায়, জীবনের ঝুঁকি জেনেও পুলিশ সদস্যরা মোবারককে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছেন। এক পুলিশ সদস্য চিৎকার করে বলছিলেন, জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা তোর জীবন বাঁচাব।

জবাবে ফলস ছাদ থেকে মোবারক অনীহার সুরে বলেন, অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোকে বাঁচানোর জন্য আসছি। অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।

তাতেও দ্বিধা কাটেনি মোবারকের। প্রাণভয়ে তিনি বারবার কসম বা প্রতিশ্রুতির দাবি জানান। বলেন, আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওসি তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। ঘরে থাকা মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দিয়ে নিচে নাম।

মোবারককে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝাতে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আমাদের কাছে চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেপ্তার হয়েছে, তুই তো ইমনের চেয়ে বড় সন্ত্রাসী না।

অবশেষে নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে মোবারক অস্ত্র সমর্পণে রাজি হন। স্বস্তির সুরে তিনি বলেন, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে। এরপর ঘরের এক মুরুব্বির মাধ্যমে অস্ত্র হস্তান্তরের পর ফলস ছাদ থেকে নিচে নেমে আসেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মোবারক ছাড়াও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও চারটি শটগানের গুলি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, মোবারকের অতর্কিত গুলিতে তিনি নিজে এবং আরও চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে অভিযুক্তকে নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোবারক বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ অপরাধী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম সহযোগী।