logo

মন্ত্রী বদলায়, বদলায় না চাঁদপুরের শিক্ষার মান: নাসীরউদ্দীন

মন্ত্রী বদলায়, বদলায় না চাঁদপুরের শিক্ষার মান: নাসীরউদ্দীন

চাঁদপুরে একাধিকবার শিক্ষামন্ত্রী থাকলেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এনসিপির চাঁদপুর সদর উপজেলার আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুরের ব্যবসা বাণিজ্যসহ অনেক সুনাম ছিল। কিন্তু যারাই বিগত দিনে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা চাঁদপুরের দিকে নজর দেওয়ার সময় ছিলো না। আগেও চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ছিল এখনও আছে। মন্ত্রী আসে যায়, কিন্তু চাঁদপুরের শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। চাঁদপুর সরকারি কলেজসহ যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর মান উন্নয়নে আমাদের নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা ভোট পেয়ে ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রী হয়ে চাঁদপুরের কথা ভুলে যায়েন না। বারবার নাড়ির টানে ফিরে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের নমুনা হচ্ছে-আপনি যদি অমুক দলের পোস্টে থাকেন তাহলে আপনি ভিসি হতে পারবেন, আপনি যদি নির্বাচনে পরাজিত হন, তাহলে আপনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। কিন্তু দলীয় যে কোটার নিয়ম এটার বিরুদ্ধেই আমাদের আন্দোলন হয়েছিল। তখন আপনারা বলেছিলেন কোটা না মেধা। কিন্তু এখন কোটায় নিয়োগ হচ্ছে। আপনারা দেখেন বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ হয়েছে সোয়েটার ব্যবসায়ী।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, নদীর কোল ঘেঁষে চাঁদপুর জেলা গড়ে উঠেছে। তাই খাল খননের পাশাপাশি নদীগুলো রক্ষা করতে হবে। নদী রক্ষা না হলে নদীর পাশের জেলাগুলো বিপদে পড়বে। আর এসব নদী থেকে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন না করলে বসতি ভেঙে নদী গর্ভে যাবে। তখন সেখানকার বাসিন্দারা ছিন্নমূল হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিবে। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে আমরা কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে সমর্থন করবো না।

তিনি বলেন, এখন আমাদেরকে ওয়াদা করতে হবে আর কেউ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে না, নদীকে শ্রদ্ধা করবে। কারণ এই নদীতে আপনার জীবিকা। এই নদী যতদিন বেঁচে থাকবে, আপনিও বেঁচে থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই, তারা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারে সে বিষয়ে স্থানীয়দের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা নামে-বেনামে ঠিকাদারি করতে আসে, তাদের চিহ্নিত করে বড় বড় খালি গাছের সাথে বেঁধে আটক রেখে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, এদের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে। কারো যদি তাদের প্রতি এত পিরিত থাকে, তাহলে ভারতে শেখ হাসিনার কাছেই চলে যান।

ইফতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার আহ্বায়ক সাগর হোসেন। চাঁদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।