বন্ধুর সঙ্গে ছবি পোস্টের পর যুবকের মৃত্যু, পাওয়া গেল দুটি চিরকুট

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্লাবন সরকার (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধুর সঙ্গে কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। একইসঙ্গ মৃত্যুর জন্য বন্ধুকে দায়ী করে লেখা দুটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়।
প্লাবন সরকার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্রভাত সরকারের ছেলে। তিনি মামুদনগর বাজারে টেইলারিংয়ের ব্যবসা করতেন। তার বন্ধু হাবিবুর রহমান একই গ্রামের বাসিন্দা ও মুদি দোকানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে প্লাবন সরকার তার ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন স্থানের কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি।’ ওই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্লাবনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া আত্মহত্যার জন্য হাবিবুর রহমানকে দায়ী করে লেখা দুটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু হাবিবুর ভাই।’ হাতের লেখাটি প্লাবন সরকারের বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্লাবনের ফেসবুক পোস্টের পর হাবিবুর রহমান ও একই গ্রামের মঈনুল ইসলাম তার বসতঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নিচে নামান। পরে গ্রামের বাজার থেকে একজন পল্লিচিকিৎসককে এনে প্লাবনের রক্ত সঞ্চালন আছে কি না, তা পরীক্ষা করেন। পল্লিচিকিৎসক প্লাবনের মৃত্যু নিশ্চিত করলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর তারা এলাকা ছেড়ে চলে যান।
পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকার জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল তার কাছে এসে প্লাবনদের বাড়িতে একটি জিনিস দেখানোর কথা বললে তিনি তাদের সঙ্গে যান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাবিবুর রহমান ও মঈনুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মঈনুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, তার ভাই ও অন্যরা বাজারে একসঙ্গে হাসের মাংস খেতেন। প্লাবনের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হওয়া উচিত। প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটি অনভিপ্রেত সম্পর্ক ছিল, যা মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়া-বিবাদও হয়েছে।
প্লাবনের বড় ভাই প্রণয় সরকার বলেন, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। হাবিবুরের কাছে প্লাবনের টাকা-পয়সা পাওনা ছিল। কয়েক দিন ধরে তারা প্লাবনকে মারধর করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্লাবনকে মেরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন প্রণয় সরকার।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্লাবনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে কী রহস্য রয়েছে এবং এটি প্ররোচিত আত্মহত্যা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।