‘প্রিয় বুলু স্যারকে’ রাজকীয় বিদায়

ফুলে ফুলে সাজানো একটি মাইক্রোবাস। তার সামনে ও পেছনে মোটরসাইকেলের বিশাল বহর। অনেকটা ভিআইপি প্রটোকলের মতো। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য গোপালরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবীব বুলুর বিদায় বেলায় এমন দৃশ্যের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষক আহসান হাবীব বুলুর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিদায় বেলায় এমন সম্মান দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরা বেগম ডলি।
স্থানীয়রা জানান, একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষকের বিদায়ে এমন রাজকীয় আয়োজন এই এলাকায় আগে কখনো দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের এমন কৃতজ্ঞতাবোধ পুরো উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিদায় শেষে বিশাল মোটরসাইকেল বহরটি শিক্ষক আহসান হাবীব বুলুকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান।
এ সময় শিক্ষক আহসান হাবীব বুলু আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। আমি আজ গর্বিত যে আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে এত সম্মান দিয়েছে। তাদের এই ভালোবাসা আমার বাকি জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরা বেগম ডলি বলেন, আহসান হাবীব বুলু স্যার কেবল এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সবার আস্থার একটি নাম। তার সততা এবং পেশাদারত্ব আমাদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার। শিক্ষার্থীরা আজ তাকে যেভাবে সম্মান দিয়ে বিদায় জানিয়েছে, তা দেখে আমার চোখ ভিজে গেছে।
বিদায় আয়োজনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, বুলু স্যার আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন অভিভাবক। ছোটবেলায় তিনি যেভাবে আমাদের হাত ধরে বর্ণমালা শিখিয়েছেন, সেই ঋণ শোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। স্যারের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা সব বন্ধুরা মিলে এই ছোট আয়োজন করেছি।
আরেক শিক্ষার্থী মলি আক্তার জানান, স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যবই পড়াতেন না, কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয় তা শিখিয়েছেন। আজ স্যার বিদায় নিচ্ছেন ভেবে খারাপ লাগছে, কিন্তু তাকে আমরা রাজকীয় সম্মানে বিদায় দিতে পেরেছি এটাই শান্তি।