Advertisement

সাপের বিষ ঝাড়া ওঝা নিজেই সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
সাপের বিষ ঝাড়া ওঝা নিজেই সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি
হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ইমরান হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি বসতবাড়ি থেকে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন নামে এক সাপুড়ে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমরান ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। নিজেকে সাপুড়ে ও সাপের বিষ ঝাড়া ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপরে ছোবল দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ইমরান হোসেনের ভিজিটিং কার্ড। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
ইমরান হোসেনের ভিজিটিং কার্ড। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। সম্রাটের মৃত্যুর পর শুক্রবার ওই বাড়িতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে ইমরানকে খবর দেন।

ইমরান বলেন, বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করা হয়। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করার পর প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানান।

এদিকে এ ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্ডে তিনি নিজেকে ‘সাপুড়িয়া’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করার দাবি করেছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পর ইমরানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট না করে যাদের সাপে কাটবে, তাদের যেন দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।