বন্যায় ভেঙেছে সড়ক, সুজনের ভরসা এখন সাঁকো

একাই সাঁকো বানিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন ফেনীর পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা নোয়াপুর সীমান্ত এলাকার যুবক সুজন। ওই এলাকার সামছুল হুদার ছেলে সুজন পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (টমটম) চালক।
জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই বাহনটি চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ভরণপোষণ চালান তিনি। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন জলাবদ্ধ জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। টমটম নিয়ে বাড়িতে পৌঁছানো তো দূরের কথা, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্যও তাকে চরম বিপাকে পড়তে হয়। তাই অন্যের সহযোগিতার আশায় না বসে পানির ওপর কাঠ, রশি ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করছেন এই যুবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম অলকা নোয়াপুর সীমান্তে জামাল মেম্বারের বাড়ির পাশে চারটি পরিবার বসবাস করে। তাদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সড়ক না থাকায় পানি পার হয়েই বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হয়। সুজন যে পথটিতে সাঁকো নির্মাণ করছেন, সেটি আগে কিছুটা ব্যবহারের উপযোগী ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের বন্যায় রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে তলিয়ে গেলে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে। গত কয়েক মাস ধরে নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ একটি সাঁকো নির্মাণ করছেন সুজন।
সুজনের স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়—বাড়িতে টমটমটি নিয়ে যেতে পারবেন, প্রয়োজনমতো চার্জ দিতে পারবেন এবং প্রতিদিনের জীবিকার পথটা একটু সহজ হবে। অথচ এই সামান্য স্বস্তির জন্যও তাকে শ্রম, সময় ও অর্থ উজাড় করে দিতে হচ্ছে।
সুজন জানান, সাঁকোটি তৈরি করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক দিন গাড়ি না চালালে যেখানে সংসার চলে না, সেখানে এত টাকা ব্যয় করে সাঁকো তৈরি করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নোয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন অপু জানান, বর্ষায় পানি বাড়লে এই এলাকার ভোগান্তি আরও তীব্র হয়। কয়েক মাস ধরে টমটমে চার্জ দিতে না পেরে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখে সুজন রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করছেন। তবে সেই স্বল্প আয়ে পরিবার চালানো দায়। তাই সাঁকোটি নির্মাণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউপি প্রশাসককে সরেজমিনে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে গুরুত্ব দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



