বগুড়ায় এনসিপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এম এস এ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু অগ্নিসংযোগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা উল্লেখ করেন, রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো সহনশীলতা, যুক্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এনসিপির নেতারা বগুড়াসহ সারা দেশে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী জিম, সাংগঠনিক সম্পাদক (দপ্তর) মো. মাইনুল ইসলাম, মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুস সবুর সুমন, এফ এম মাহমুদুল হক রাকিব, আল মোক্তাদির দিপ, যুবনেতা মহিদুল আলম মিসু, স্বপ্ন, শ্রমিক নেতা এবং ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মো. সৈকত আলী ও রাব্বি মন্ডলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জলেশ্বরীতলায় এনসিপির জেলা কার্যালয়ে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দলের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ে পেট্রোল বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি বা ধারণকৃত ভিডিওতে তিন যুবককে কার্যালয়ে পেট্রোলজাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরাতে এবং আরেকজনকে মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়।
